রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়দের সাথে ব্যবসার আগে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ব্যবসার সূচনা সবসময়ই উত্তেজনাময়, তা সে যত ছোট ব্যবসাই হোক না কেন। নতুন নতুন এবং মহৎ কাজ করার পাশাপাশি অনেক নতুন মুখের সাথে পরিচয় ও বোঝাপড়া হবে- এই উত্তেজনাই কাজ করে বেশি। ব্যবসা মানেই মানুষের সাথে সম্পর্ক। এই মানুষগুলো অপরিচিত, পূর্বপরিচিত কিংবা আত্মীয়ও হতে পারে। আত্মীয়-স্বজনের ক্ষেত্রে ব্যবসায় নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকাটা খুবই কৌশলী একটি ব্যাপার। রক্তের সম্পর্ক কিংবা অন্যান্য সম্পর্ককে যদি ব্যবসার ঊর্ধ্বে রাখা না যায়, তবে ব্যবসায় সফল হওয়াটা বেশ কঠিন। আর্থিক ও অনুভূতিগত দিক থেকেও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয় যদি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই আত্মীয়দের সাথে ব্যবসা শুরু করা হয়। নিচের উপদেশগুলো এ ধরণের সমস্যা সমাধানে কাজে আসতে পারে।

শুরু থেকেই ব্যবসার কিছু নীতি ও সবার কর্তব্য ঠিক করে দেয়া উচিৎ। ক্ষমতা ও চালিকাশক্তি কার হাতে থাকবে সেটা সবাই মিলে ঠিক করাই শ্রেয়। ব্যবসায় বিভিন্ন সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিবর্তন হতেই পারে। সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও পরিচালনার মাধ্যমে যেকোনো সিদ্ধান্তে দ্বিমত বা ঝামেলা এড়ানো সম্ভব। আত্মীয়দের মধ্যে কেউ যদি সেসব নিয়মে সন্তুষ্ট না হয়, তবে প্রাথমিকভাবেই তাকে ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার পথে ধাবিত করা উচিৎ। বাবা যেমনি সন্তানকে শাসনে অক্ষম হলে তা ঘরের সর্বনাশ ডেকে আনে, তেমনি ব্যবসার কর্ণধার যদি ব্যবসাকে ঠিকভাবে পরিচালনা করতে না পারে তবে তার সরে যাওয়াই ব্যবসায় বিপর্যয় ঠেকাতে পারে।

সবার নির্দিষ্ট দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া উত্তম। সবাই যদি নিজের কর্তব্য নিয়ে ভাবে তবে সম্মিলিতভাবে ব্যবসা এগিয়ে যাবে। আত্মীয়দের বোঝাতে হবে যে, নিজ নিজ অবস্থান থেকে তারা প্রত্যেকেই ব্যবসার অংশীদার এবং এবং ব্যবসার উন্নতিতে সবার অবদানই দরকার। এতে কোন দ্বন্দ্ব বা ভুল বুঝাবুঝির অবকাশ থাকে না এবং ব্যবসাতেও এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।

ব্যবসায় সব পক্ষের দায়বদ্ধতার বিস্তারিত নথি থাকা উচিৎ। সম্ভব হলে অংশীদার আত্মীয়দের দায়বদ্ধতা কিংবা ব্যাবসায় অবদানকে আর্থিক হিসেবে নথিবদ্ধ করতে হবে। অর্থ, যন্ত্রাংশ কিংবা আবাসন- যেকোনো অবদানকেই হিসাব করে রাখতে হবে।

লভ্যাংশ ভাগাভাগির নীতি প্রণয়ন করা উচিৎ শুরুতেই। ব্যবসায় ভালো করলে লাভের কত অংশ কে পাবে সেটি অবশ্যই প্রত্যেকের অবদানের ভিত্তিতেই হতে হবে, বয়স বা পরিবারে অবস্থান দেখে নয়। ব্যবসায় লাভের টাকা ভাগ করা নিয়েই সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। তাই শক্ত নিয়ম করতে হবে এবং কেউ সেটায় অখুশি থাকলে তার চলে যাওয়াই মঙ্গল।
আত্মীয়-স্বজনের সাথে ব্যবসায় অবশ্যই অংশীদারত্ত চুক্তি থাকা উচিৎ। দায়বদ্ধতা, পরিচালনা নির্ধারণ ও লভ্যাংশ বণ্টন ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট চুক্তি থাকা উচিৎ। অনিচ্ছুক আত্মীয়দের বরাবরের মতই চলে যাওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দেয়াই উত্তম।

ব্যবসা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং আর আত্মীয়দের সাথে নিয়ে তা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং ও কৌশলী। আত্মীয়রা কিংবা রক্তের বন্ধন অনেক বেশি পবিত্র ও আত্মিক, তবে ব্যবসার ক্ষেত্রে সেই সম্পর্ককে নষ্ট হতে দেয়া যাবে না, তা সে ব্যবসায় তাদের অন্তর্ভুক্ত না করে হলেও। উপরোল্লিখিত পন্থাগুলো অবলম্বন করে সুপরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যবসা করলে আত্মীয়দের মধ্যে কলহ তো হবেই না বরং ঘরের মতই ব্যবসাতেও আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে অটুট।

Postedxxx in নির্বাচিত, বুদ্ধি পরামর্শ

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবেনা। পুরন করা জরুরী *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

জরিপ

ব্যাংকিং খাতের অবস্থা কি ভালো বলে আপনি মনে করেন?

Loading ... Loading ...
ফেসবুক এ আমরা