কর্মস্থলে প্রতিবন্ধকতা দূর করার উপায়

কর্মস্থলে বেশি কাজ করার প্রধান উপায় হল কাজের পথে যেসব প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় সেগুলো দূর করা। কাজের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা নানানভাবে আসতে পারে। লোকের কাছ থেকে আসতে পারে, পেপারের কাছ থেকে আসতে পারে, আসতে পারে প্রযুক্তির কাছ থেকেও। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে আপনি সোনার হরিণ হাতে পেতে পারেন। যদি আপনি একটা মিনিট বাঁচাতে পারেন, নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, জয় করতে পারেন তাহলে পরবর্তীতে আপনি আকাশে উড়তে পারবেন এবং এমন একটা জায়গায় অবতরণ করতে পারবেন যেখানটা জাহাজের পাটাতন দ্বারা মোড়ানো!

সময় ব্যবস্থাপনার সমস্যাটাকে নজরে রাখুন:
প্রতিবন্ধকতা প্রতিদিন ২.১ ঘন্টা সময় নষ্ট করে অথবা আমাদের কাজের সময়ের ২৮ শতাংশ অপচয় করে। একটি কাজ থেকে সরে গেলে ১৯ মিনিটের মতো সময় অপচয় হয়। আপনি যদি এভাবে কাজ থেকে সরে যেতে থাকেন তাহলে প্রতিদিন আপনার এক ঘন্টা করে সময় অপচয় হবে। কখনো কখনো আনেক ই-মেইল আসতে পারে। প্রতি ঘন্টায় ই-মেইল আসার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২৫ থেকে ৩০টির মতো। কখনো কখনো ফোন বাজে, মানুষ জানতে চাইতে পারে, ‘আমি কি আপনার মূল্যবান একটি মিনিট পেতে পারি?’ ইন্টারনেট এমন একটা জিনিস যা আমাদেরকে প্রতি মুহর্তে তথ্যের ব্যাপারে সতর্ক বার্তা দিয়ে থাকে। আর এই সতর্ক বার্তা আমাদের কাজের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়। যা সময়কে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে আমাদেরকে ব্যর্থ করে তুলে। আর আমরা বিস্মিত হয়ে বলি যে কেন আমরা সময়কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না!

কিন্তু এখন হয়তো বলার উপযুক্ত সময় যে কিছু কিছু মানুষ আছেন যারা সময়কে নিজের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আমাদের আশেপাশে এমন অনেক লোকই আছেন। তারা কিভাবে পারেন? তাদের পারার রহস্যটা কি? মনোবিজ্ঞানী গেই হেনড্রিক্স তার একটি বইতে ‘সময় তৈরি/সময় সৃষ্টির’ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আসলে সময়কে নিয়ন্ত্রণ করার মূল উপায়টি হচ্ছে গুরুত্ব অনুসারে কাজ করা। যে কাজগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ সে কাজগুলো আগে করতে হবে। বাকিগুলো পরে দেখা যাবে। আসলে এটা কাজের জন্য একটি সীমানা তৈরি করে দেয়। আর এই সীমানা তৈরির মানে হচ্ছে গুরুত্ব অনুসারে কাজগুলো ভাগ করে ফেলা এবং সেগুলো সময় মতো শেষ করা। আর যখন গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করবেন তখন অন্য কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কাজের সীমানা নির্ধারণে যা যা অনর্ভুক্ত:
ই-মেইল অফ করে রাখা। পাশাপাশি ই-মেইল আসার সাথে সাথে যে নির্দেশনা এবং শব্দ তৈরি হয় সেগুলোও বন্ধ করে রাখা।

মোবাইল ফোনটাকে মিউট-সাইলেন্ট করে রাখা।

অফিসের দরজা বন্ধ করে রাখা।

ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগকে সীমিত করে দেয়া।

দিনের অল্প সময়ের জন্য যে মিটিংগুলো ডাকা হয় সেগুলোতে গিয়ে অথযা সময় নষ্ট না করে পাশে বসে ছোটখাটো কাজ সেরে নেয়া।

অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতা থেকে যথা সম্ভব নিজেকে বিরত রাখা।

প্রতিক্রীয়াশীল না হয়ে ক্রীয়াশীল হোন। এটার মানে হচ্ছে কাজের দিনগুলোতে প্রতিবন্ধকতা দূর করে কাজের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার দিকে এগিয়ে যান। এক্ষেত্রে আপনি স্টিফেন কভি এর ‘জরুরি বনাম গুরুত্বপূর্ণ’ পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পারেন। মি. কভি দেখিয়েছেন যেসব কাজগুলো আর্জেন্ট এর লেবাস লাগানো সেগুলোর সবগুলোই সত্যিকার অর্থে গুরুত্বপূর্ণ নয়। অনেক সময় এগুলো অযথাই অনেক শক্তি এবং সময়ের অপচয় করে। যেগুলো সত্যিকার অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিকভাবে সেগুলো বাছাই করে ফেলুন। সাধারণত আমরা অন্যের জরুরী বিষয়ের কথা শুনলেই বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রীয়াশীল হয়ে ওঠি এবং সেগুলো সমাধান করার জন্য উঠে পরে লাগি।

আসলে আর এমন কি কাজ আছে যেগুলো জরুরী বলে মনে হয়? ই-মেইল, ফোন কল, অন্য লোকের জরুরী কাজ। হ্যাঁ এগুলো আপনি করতে পারেন যদি আপনি সপ্তাহে সাত দিন এবং দিনে ২৪ ঘন্টা কোনো চাকুরি না করে থাকেন। কিন্তু যদি আপনি চাকরি করে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে আগে নিজের কাজের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। তারপর অন্যের জরুরী বিষয়টি দেখবেন।

আপনার বস, সুপারভাইজার, পার্টনার এবং টিম মেম্বারদের সাথে কাজ করুন যাতে করে আপনি বোঝাতে পারেন কোম্পানির ই-মেইল, ফোন কল ইত্যাদির ক্ষেত্রে আপনি কতোটা দায়িত্বশীল। যদি আপনি একটি প্রজেক্টে ৪৫ মিনিট করে সময় দেন এবং ২৫ টি কল এবং ই-মেইলের জবাব দেন তাহলে দেখবেন আপনার কাজের গতিতে কেমন জ্যাম লেগে গেছে। এই প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করাটাই কর্মক্ষেত্রে বেশি কাজ করার মূল রহস্য। এগুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন। কাজের গতি নিজে নিজেই বাড়বে।

Postedxxx in বুদ্ধি পরামর্শ

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবেনা। পুরন করা জরুরী *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

জরিপ

ব্যাংকিং খাতের অবস্থা কি ভালো বলে আপনি মনে করেন?

Loading ... Loading ...
ফেসবুক এ আমরা