বিটিআরসি নতুন অপারেটর হিসেবে আরেকটি খেলোয়ার চায়

বিগত কিছু দিনের মধ্যে ২টি মোবাইল অপারেটরের একত্রিত হয়ে যাওয়া এবং একটি অপারেটরের বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারনে টেলিকম নিয়ন্ত্রকেরা নতুন একটি অপারেটর মাঠে আনার চিন্তা ভাবনা করছে যাতে করে মোবাইল অপারেটরের মার্কেটে যথাযথ প্রতিযোগিতা থাকে এবং ডিজিটাল সেবার মানও যেন আরও উন্নত হয়।

গত বছর রবি এবং এয়ারটেল একত্রিত হয়ে সম্মিলিত একটি অপারেটর কোম্পানিতে পরিণত হয়। অন্য দিকে দেশের সবচেয়ে পুরাতন অপারেটর সিটিসেল প্রায় দশ মাস ধরে সকল ধরনের কার্যক্রমের বাইরে ছিল এবং খুব শীঘ্রই এর লাইসেন্স বাতিল করা হবে। এভাবে ছয় সদস্যের মোবাইল অপারেটর মার্কেট পরিণত হয়েছে চার সদস্যের, যা মূলত গ্রামীনফোন, রবি এবং বাংলালিংক-এর অধীনেই রয়েছে। কেননা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মতে, এই তিনটি অপারেটরই মার্কেটের প্রায় ৯৭.৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রন করছে। বাকি ২.৭ শতাংশ মার্কেট শেয়ার টেলিটকের অধীনে রয়েছে এবং টেলিটকই দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর।

দেশে সর্বশেষ লাইসেন্স দেয়া হয় ২০০৫ সালে এয়ারটেলকে। সবাই আশা করছে যে পরবর্তী নিলামে কমপক্ষে একটি নতুন অপারেটর কোম্পানি তাদের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিবে। মার্কেটের এক-তৃতীয়াংশ অপারেটর তাদের কারক্রম বন্ধ করে দিয়েছে, তাই তারা নতুন কোন অপারেটরের জন্য অনেক উৎসাহ সহকারে অপেক্ষা করছে। এই উদ্দেশে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন পরবর্তী নিলাম অনুষ্ঠান দুই তিন মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত করবে। ইতিমধ্যে বিটিআরসি চতুর্থ প্রজন্মের লাইসেন্সিং এর জন্য কিছু নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়ছে, যা পূর্ববর্তী নীতিমালা থেকে কিছুটা ভিন্ন।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই খাতে নতুন কোন বিনিয়োগকারী পাওয়া অনেক কষ্ট হবে, কেননা এই খাতের ব্যপারে ভবিষ্যতে কি হবে না হবে তা ভালোভাবে বলা যায় না। আইনের মাধ্যমে এই খাত থেকে প্রতিযোগিতা অনেকটাই নির্বাসিত করা হয়েছে, যা মার্কেটের জন্য অনেক বড় একটি বাধা। ২০০৮ সালে এনটিটি ডকমো রবির প্রায় ৩০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়, কিন্তু পরবর্তীতে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং তারা তাদের শেয়ারগুলো ২ ভাগে ভাগ করে দেয়। রবি ও এয়ারটেলের একত্রিত হয়ে যাওয়ার পর জাপানিস কোম্পানির অধীনে রবির কেবল মাত্র ৬.৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। তাছাড়া ওয়ারিদ বাংলাদেশে তাদের যাত্রা ২০০৬ সালে শুরু করে, কিন্তু তারা তাদের ৭০ শতাংশ শেয়ার ১০০,০০০ ডলারের বিনিময়ে এয়ারটেলের কাছে বিক্রি করে দেয়।

বিগত দশ বছরে টেলিকম অপারেটরগুলোর কোন রকম পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠার অনুমতি ছিল না। এছাড়া গ্রামীনফোন ছাড়া অন্য কোন অপারেটর কোম্পানির অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কও ছিল না। সেকারণে নতুন অপারেটরগুলোর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগ্রহ খুবই কম।

মে মাসে টেলিকম অপারেটরদের সাথে একটি বৈঠক হয় যেখানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বিটিআরসিকে বিশ্বের শীর্ষ টেলিকম অপারেটর সদস্যদের সাথে কথা বলতে বলেন যাতে করে তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। বিটিআরসি বলে যে তারা ইতিমধ্যে একটি কোম্পানির সাথে কথা বলেছে কিন্তু তারা এদেশে আসতে এবং বিনিয়োগ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই ঘটনা বিটিআরসিকে নতুন কোন প্রস্তাব উত্থাপনে আরও রক্ষণশীল করে তুলেছে।

 

Tagged with: , ,
Postedxxx in প্রযুক্তি

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবেনা। পুরন করা জরুরী *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

জরিপ

ব্যাংকিং খাতের অবস্থা কি ভালো বলে আপনি মনে করেন?

Loading ... Loading ...
ফেসবুক এ আমরা