বেক্সিমকো গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, প্রাণ গ্রুপের মত প্রাইভেট কোম্পানীগুলো কিভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাহায্য করছে?

বাংলাদেশকে এখন একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি অগ্রগতির দিকে পরিচালিত হচ্ছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রতি বছরই বাড়ছে এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এটা প্রায় ৬% ছিল যা প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল ও পাকিস্তান তুলনায় বেশি।

অর্থনীতির ভাষায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা রয়েছে প্রভাবশালী হবার কারন অনেক প্রাইভেট কোম্পানী অর্থনীতিতে ব্যাপক যোগান দিচ্ছে। বেক্সিমকো গ্রুপ, প্রাণ গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপের মত শীর্ষ প্রাইভেট কোম্পানীগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মেরুদন্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই গ্রুপগুলোর বেশিরভাগই ১৯৭০-৮০ দশকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কোম্পানীগুলোর খুব দ্রুত উত্থান হয়েছে এবং এগুলো শুকনো খাবার, সিমেন্ট, এলপি গ্যাস, সিরামিক এবং ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যসহ নানা পন্য উৎপাদন করে সাবলম্বি হয়েছে।

এইসব গ্রুপ গুলো রপ্তানী তে সঠিক গুনগত মান বজায় রেখে অর্থনীতিতে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছে। তাদের পন্য বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১০০ টিরও বেশি দেশে রপ্তানী হচ্ছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, বেক্সিমকো ফার্মা লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়েছে যা কোম্পানীটি্র জন্য এবং দেশের জন্যও একটি বিরাট অর্জন। এই কম্পানী ১৯৭২ সালে গঠন করা হয়। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করেছে সর্বোচ্চ দক্ষতা নিশ্চিত করে। এই কম্পানীটি বিশ্বমানের পন্য প্রদান করে। এটা এখন সারাবিশ্বের ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরের এক অন্যতম বড় কম্পানী হিসাবে পরিগনিত হয়। ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টর ছাড়াও বেক্সিমকো গ্রুপ সিরামিক উৎপাদন, ভোক্তা এবং মূলধন সামগ্রী লেনদেন, আর্থিক সেবা, বিমান পরিবহন ও মিডিয়ার ব্যবসার সাথে জড়িত ।

বাংলাদেশের আরেকটি বড় কোম্পানি – প্রাণ গ্রুপ যা মূলত খাদ্য দ্রব্যের জন্য প্রখ্যাত। কোম্পানীটি ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল।তাদের তৈরী শুকনো খাবার বাজারে বহু বছর ধরে চলছে।এটা পরপর আট অর্থবছর “শ্রেষ্ঠ জাতীয় রপ্তানিকারকের” পুরস্কার অর্জন করেছে। খাদ্য দ্রব্যে বাংলাদেশে প্রথম আইএমএস সার্টিফিকেট অর্জনকারী কোম্পানী হিসেবে প্রান গ্রুপ যেখানেই প্রয়োজন হচ্ছে পন্য প্রদান করে যাচ্ছে। ইউরোপ, আফ্রিকা অ মিডিল ইস্তে রপ্তানী করে এই কম্পানীটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিরাট অবদান রাখছে।

রিয়েল এস্টেট সবসময় একটি ভাল বিনিয়োগের জায়গা যা বসুন্ধরা গ্রুপ প্রমাণ করেছে। এই কম্পানী প্রথমিকভাবে ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট নামে যাত্রা শুরূ করেছিল। তার খুব দ্রুত সফলতা পেয়েছে। তারা দেশের ভিতর খুব দ্রুত উন্নতি করতে থাকে। এখন সিমেন্ট, কাগজ, পাল্প টিস্যু এবং এলপি গ্যাস বোতলীকরন সহ আরো বিশটি বিভাগে বিনিয়োগ করেছে এই কম্পানী।

এই কম্পানী গুলো সাধারন মানুষের জন্য অনেক কর্মক্ষেত্র তৈরী করছে যা দারিদ্র্য দূরীকরনকে ত্বরান্বিত করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বিশাল অংশ এখন এই প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর উপর নির্ভর করে।

Tagged with: , ,
Postedxxx in নির্বাচিত, বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবেনা। পুরন করা জরুরী *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

জরিপ

ব্যাংকিং খাতের অবস্থা কি ভালো বলে আপনি মনে করেন?

Loading ... Loading ...
ফেসবুক এ আমরা